শিরোনাম
বানারীপাড়ায় বিরোধীয় সম্পত্তিতে বিল্ডিংয়ের কাজসহ অন্যান্য কাজ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি // শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ ছগির খানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত। বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ ছগির খানের মৃত্যুতে বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের শোক বানারীপাড়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহবানে জাকের পার্টির জনসভা ও  র‍্যালি বানারীপাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বোয়ালমারীতে সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু ।এন্টিভেনম ইনজেকশন দেওয়ার পরও রোগীর মৃত্যু উজিরপুরে জমি বিক্রির কথা শুনে  বৃদ্ধাকে অবরুদ্ধ করে বেড়া দিয়ে দখলের অভিযোগ।  কাশিয়ানীতে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করার সময় নি’ষি’দ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার। স্বরূপকাঠীতে গাছ কাটার রশিতে ফাঁস লেগে চলন্ত মটর সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু পিরোজপুরের ফায়ার ফাইটার মোঃ কামাল হোসেন একজন সাহসী উদ্ধার কর্মী
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বানারীপাড়ায় দূর্নীতিবাজ তহশিলদার ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

রিপোটারের নাম / ২৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

জাকির হোসেন//
বরিশালের বানারীপাড়ায় ভূমি অফিসের আলোচিত দুই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র এবং মোঃ সাইদুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের একটি জাল-জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ১৫ লাখ টাকা ঘুসগ্রহণের প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষকে ভূমি মিউটিশন করে দেওয়ার ঘটনায় বানারীপাড়ার প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান মৃধার ছেলে গোলাম কবির বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে অভিযোগ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) নির্দেশ দিয়েছেন। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আলোচনায় এসেছিল। জেসমিন আক্তার ডালিয়া নামের জনৈক নারীর ভূমি মিউটেশন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা শেষ পর্যন্ত তহশিলদার ও তার সতীর্থরা আর হজম করতে পারেননি। অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওই অর্থ তৎকালীন উপজেলা ভ‚মি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) হস্তক্ষেপে তাদের কাছে থেকে উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে তা ভুক্তভোগীকে ফেরত দেওয়া হয়।  সেই ঘুসবাণিজ্যের আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় এবার প্রকাশ্যে আসল বিমল এবং সুমনের মস্তবড় জাল-জালিয়াতির ফিরিস্তি, যা এখন তদন্ত করবেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা।
সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া পৌরশহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড় বাজারে এসএ ১৭৪ নম্বর দাগের জমিতে গোলাম কবিররা পূর্বপুরুষ থেকে সমিল, রাইসমিল ও অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ওই জমিতে বানারীপাড়ার সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র এবং সার্ভেয়ার মো. সুমন জাল দলিলের সাহায্যে ১৫ লাখ টাকার লেনদেনের’ মাধ্যমে জনৈক আনিস মৃধা গংদের মিউটেশন (বিপি/৬৪ ২০২১-২০২২ইং) করে দিয়েছেন। যে দলিলের দ্বারা ভূমি অফিসের তহশিলদার এবং সার্ভেয়ার মিউটেশন করিয়েছেন সেই দলিলটিও জাল। সার্টিফাইড কপিতে দেখা যায়, ওই দলিলের তফসিল বানারীপাড়া মৌজাতেই নয়। এমনকি দলিল দাতা গ্রহিতার নামও এক নয়। দলিল গ্রহিতা মাধুরী রাণী দাস ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে মর্জিনা বেগম নাম ধারণ করেন এবং তিনি ১৯৬৪ সালে আব্দুস সাত্তার মৃধার সাথে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন। তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম ১৯৬৭ সালে, ৫ বছর পরে ১৯৬৯ সালে কিভাবে মাধুরী রাণী দাসের নামে দলিল সম্পাদিত হয়েছে। এসএ ১৭৪ নম্বর দাগে আনিস মৃধা গং পূর্বপুরুষ থেকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন বলে তহশিলদার এবং সার্ভেয়ারের  রিপোর্টে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু জায়গাটি পৌর এলাকায় হলেও তার কোন হোল্ডিং নম্বর নাই। পরবর্তীতে ১৪১/২০২৩ মামলায় ভূমি অফিসের জরিপে ১৭৪ নম্বর দাগ গোলাম কবিরের সম্পূর্ণ দখলি সম্পত্তি, তা রিপোর্ট করা হয়েছে।
সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তহশিলদার এবং সার্ভেয়ারের পূর্বের রিপোর্টটি  মিথ্যা এবং বানোয়াট। যার প্রমাণস্বরুপ গোলাম কবির অভিযোগের সাথে তার সম্পত্তির বৈধ হোল্ডিং নম্বর, সমিল, রাইস মিল, কাঠের মার্কেট, সমস্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্রজুড়ে দেন। মূলত তাৎক্ষণিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই জেলা প্রশাসক কবিরের অভিযোগটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ সমূলে অস্বীকার করে বিমল চন্দ্র এবং  সুমন বলেন, এসিল্যান্ডের আদেশে মিস কেসের মাধ্যমে ওই সম্পত্তির খাজনা নিয়ে দাখিলা দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি বিমল এবং সুমনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী গোলাম কবির দাবি করেছেন, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে এ জাল-জালিয়াতিতে সহায়তা করা হয়েছে। এমন অভিযোগ বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর করার পর তা গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে  বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে বানারীপাড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মুসতাহিন তাসমিন রহমান অনিদ্রের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা গেলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বানারীপাড়ায় নতুন যোগদানের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ভ‚মি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমল এবং সুমনের দুর্নীতির ফিরিস্তি জেলা প্রশাসকের টেবিলে এবং তা তদন্ত করবেন শীর্ষ একজন কর্মকর্তা এমন খবরে তারা অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিদিনের ন্যায় অফিস করতে দেখা গেলেও মুখ ছিল মলিন। এই বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা আছে যে, কেচো খুঁজতে গিয়ে যেনো সাপ না পেয়ে বসেন কর্মকর্তারা। কারণ দুইজনের অতীত ইতিহাস তেমন একটা সুবিধার নয়, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেমন দুর্নীতি করেছেন, তেমনি গড়েছেন টাকার পাহাড়।
জানা গেছে, এরআগেও আলোচ্চ্য এই দুই কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তি অনুসন্ধান করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনো অদৃশ্য শক্তি যেনো তাদের আগলে রাখছে। সেই শক্তির বলেই কী এবার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ভ‚-সম্পত্তি প্রতিপক্ষের নামে মিউটিশন করিয়ে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেনÑ এমন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম একজন সৎ এবং পরিচ্ছন্ন মানসিকতার ব্যক্তিত্ব, তাঁর চাকরি জীবনে অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন এমন উদাহরণ নেই। সেক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজ এই দুই কর্মকর্তার এবার পার পেয়ে যাওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। ধারণা করা হচ্ছে, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কঠোরতা ওই দুইজনকে বেশিমাত্রায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তদন্তে যদি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের ভবিষ্যত বিষিয়েও উঠতে পারে। এখন তাদের দুজনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন তদন্ত করে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই দেখার অপেক্ষা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ